ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
* সম্প্রতি কয়েক জেলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১০ জনের * রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিভেনম নিয়ে চলছে গবেষণা

বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ ছড়িয়ে পড়ছে

  • আপলোড সময় : ১২-০৬-২০২৪ ১২:২৫:১১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-০৬-২০২৪ ১২:২৫:১১ পূর্বাহ্ন
বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ ছড়িয়ে পড়ছে
কয়েক বছর ধরে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপবিশেষ করে পদ্মাবেষ্টিত জেলাগুলোয় এখন রাসেলস ভাইপারের দংশন মানেই নিশ্চিত মৃত্যুপদ্মা ও মেঘনা হয়ে এই সাপ এখন চাঁদপুর, চট্টগ্রামেও পাওয়া যাচ্ছেদ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন জায়গায়
রাসেলস ভাইপারের সংখ্যা বাড়ায় এর দংশনে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাও বাড়ছেকিন্তু হাসপাতালগুলোতে এর অ্যান্টিভেনম না পাওয়ায় বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাদেশে উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের ১৫৭টি দেশে রফতানি হলেও এখনও বিষধর সাপের অ্যান্টিভেনম তৈরি করেনি দেশীয় কোনো ওষুধ প্রতিষ্ঠানইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ভারত থেকে অ্যান্টিভেনম আমদানি করে দেশে সরবরাহ করেকিন্তু প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে পাওয়া যায় না
২০২৩ সালে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (এনসিডিসি) করা গবেষণায় জানা যায়, দেশে প্রতি বছর প্রায় চার লাখ তিন হাজার মানুষ সাপের দংশনের শিকার হনএর মধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছেসম্প্রতি পদ্মার তীরঘেঁষা পাবনা জেলার ঈশ্বরদীর ডিক্রির চরে রাসেলস ভাইপারের দংশনে মারা যান কৃষক হাফিজুর রহমান সোহেল৪২ বছর বয়সি এ ব্যক্তির আত্মীয় হাসান আদিব জানান, পদ্মার চরের মাঠে সাপে কাটার পর সোহেলকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়সেখান থেকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলকোথাও রাসেলস ভাইপার সাপের অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নিবিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায়নিবিনা চিকিৎসায় তিনি মারা যানহাসান আদিব বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, উত্তরাঞ্চলে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) অ্যান্টিভেনম রয়েছেকিন্তু কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোরের ফসলের মাঠে রাসেলস ভাইপার সাপ ছড়িয়ে পড়েছেএসব জেলা থেকে এ সাপে কামড়ানো রোগী রাজশাহীতে নিতেই আড়াই ঘণ্টা সময় লাগেচিকিৎসকরা জানান, সাপে কামড়ানোর ১০০ মিনিট অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের মধ্যেই ভেনম দিতে হবেকুষ্টিয়া ও পাবনার হাসপাতালগুলোতে সেই ব্যবস্থাও নেইঅথচ পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ ও মেহেরপুরে রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি
এ ঘটনার কিছুদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিনুর রহমান সাব্বির রাসেলস ভাইপারের দংশনে মারা যানতার সহপাঠী ও বন্ধুরা জানান, কয়েকজন বন্ধু মিলে পদ্মা পাড়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন সাব্বিরএসময় জিলাপি খেয়ে ফেলে দেয়া কাগজের প্যাকেট আবার হাত মোছার জন্য নিতে গিয়েই রাসেলস ভাইপারের দংশনের শিকার হনসঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে
চলতি বছর এ পর্যন্ত পদ্মার তীরবর্তী রাজশাহী, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপারের দংশনে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছেএর মাঝে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে, গত তিন মাসে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের চরাঞ্চলেই বিষধর রাসেলস ভাইপারের দংশনে প্রাণ হারিয়েছে পাঁচজন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য বলছে, সাপের দংশনে রোগীর চিকিৎসার জন্য স্থানীয় সাপ থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরি হলে তা সবচেয়ে কার্যকর হয়কারণ, একেক দেশের সাপের প্রকৃতি, ধরন একেক রকমভারতে যেসব সাপ থেকে ভেনম সংগ্রহ করা হয়, সেগুলোর মাত্র ২০ শতাংশ বাংলাদেশের সাপের সঙ্গে মেলেঅথচ বছরের পর বছর ভারতে তৈরি অ্যান্টিভেনম দিয়েই বাংলাদেশে সাপের দংশনের শিকার রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছেসাপের দংশনে মৃত্যু কমাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে দেশে বিচরণ করা সাপের ভেনম তৈরির গবেষণা চলছে
ভেনম রিসার্চ সেন্টারের গবেষক ডা. আবদুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, সাপের কামড়ের ওপর আমরা জাতীয়ভাবে জরিপ করেছিএতে দেখেছি দেশে প্রতিবছর প্রায় সাত হাজার ৫০০ মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায়আর চার লাখের বেশি আমাদের দেশে সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটেডা. আবদুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, আমাদের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রধান লক্ষ্য ছিল, বিষধর সাপ সংগ্রহ করাতারপর তাদের লালন-পালন করা ও বিষ সংগ্রহ করাবর্তমানে সাপের বিষ সংগ্রহের কাজ চলছেআমাদের দেশের ১১ জাতের বিষধর সাপের অ্যান্টিভেনম সংগ্রহ করা হয়েছেতবে দ্রুত অ্যান্টিভেনম তৈরি সম্ভব নয়এর প্রক্রিয়া অনেক লম্বাএখন এ ভেনমের অনেক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমানআবার এ ধাপের অনেক পরীক্ষা আমাদের দেশে হয় নাসম্প্রতি ডব্লিউএইচওর সহযোগিতায় কিছু ভেনম স্পেনের ল্যাবে পাঠানো হয়েছেআমাদের ভেনমের স্বভাব চিহ্নিত করতে হবে
বাংলাদেশে অনেক সাপ দংশন করলেও বিষধর নয় এমন সাপের সংখ্যাই বেশিদেশে সাধারণ বিষধর সাপ এলাপিড গ্রুপ (এলাপিড হচ্ছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে প্রাপ্ত বিষধর সাপগুলোর একটি পরিবারএর মূল বিস্তৃতি ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে)এখন পর্যন্ত এ পরিবারভুক্ত ৬১টি এবং ৩২৫টি প্রজাতির কথা জানা গেছেএর মধ্যে রয়েছে গোখরাভাইপারিডি যা ভাইপার বা ভাইপারিডস নামেও পরিচিতএটি পৃথিবীতে প্রাপ্ত বিষধর সাপগুলোর চারটি পরিবারের একটিঅ্যান্টার্কটিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, মাদাগাস্কার, হাওয়াই, এবং আর্কটিক মেরুবৃত্তীয় অঞ্চল ব্যতীত বিশ্বজুড়েই এটির বিস্তৃতি লক্ষ্য করা যায়ভাইপারিডি গ্রুপে আছে সবুজ সাপ বা গ্রিন ভাইপার ও আরেকটি রাসেলস ভাইপারএগুলো আমাদের দেশের বিষধর সাপ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেন, দেশে প্রায় ১০৪ প্রজাতির সাপ পাওয়া যায়এর মধ্যে ৩০ প্রজাতির সাপ বিষধরসবচেয়ে বিষধর হলো রাসেলস ভাইপাররাসেলস ভাইপার শুকনো বা ভাটি অঞ্চলে থাকেতবে এরা পানিতেও সমান ভাবে থাকতে পারেএরা ডিম না পেড়ে বাচ্চা জন্ম দেয়ায় এদের প্রজনন বেশিঅনেক ক্ষেত্রে চরাঞ্চলে কচুরিপানার মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকতে পারে
অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেন, রাসেলস ভাইপার একসঙ্গে অনেক বাচ্চা জন্ম দেয়অনেক বছর দেশে রাসেলস ভাইপারের খবর ছিল না২০১১-১২ সালের দিকে রাজশাহীর তানোরে রাসেলস ভাইপার দেখা যায়এরপর রাজশাহীতে সীমাবদ্ধ না থেকে পদ্মা, যমুনা দিয়ে মেঘনা হয়ে চাঁদপুরে যায়এখন মানিকগঞ্জে অনেক পাওয়া যাচ্ছেপানির অববাহিকা দিয়ে রাসেলস ভাইপার চলাচল করেরাসেলস ভাইপার দ্রুত বংশবৃদ্ধি করছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েও পড়ছে
অন্যদিকে, রাসেলস ভাইপারের রং অনেকটা জমির রঙের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় কৃষকরা ঠিকমতো খেয়াল করেন নাকাজ করতে গিয়ে দংশনের শিকার হনযুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের পরামর্শ বলছে, যে কোনো ধরনের সাপ দংশন করলে শান্ত থাকতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবেশরীরের যে স্থানে দংশন করেছে সেটি যতটা কম সম্ভব নড়াচড়া করতে হবেঘড়ি বা অলংকার পরে থাকলে তা খুলে ফেলতে হবেকাপড় দিয়ে দংশনের জায়গাটা বাঁধলে ঢিলে করতে হবে, তবে খোলা যাবে নাসাপের দংশনের স্থান থেকে চুষে বিষ বের করে আনার চেষ্টা করা যাবে নাদংশনের স্থান আরও কেটে বা সেখান থেকে রক্তক্ষরণ করে বিষ বের করে আনার চেষ্টা করা যাবে নাবরফ, তাপ বা কোনো ধরনের রাসায়নিক কামড়ের স্থানে প্রয়োগ করা যাবে নাআক্রান্ত ব্যক্তিকে একা রাখা যাবে নাদ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
গবেষক ফরিদ আহসান জানিয়েছেন, বৃষ্টির সময় বা বর্ষাকালে নিচু এলাকা ডুবে গেলে সেখান থেকে সাপ শুকনো জায়গায় আশ্রয় নেয়এ সময় সচেতনতা অনেক বেশি প্রয়োজনকৃষিজমিতে নামার আগে কৃষকদের জিন্সের প্যান্ট পরে নামা উচিত, যাতে সাপের কামড় না লাগেএছাড়া মাঠে নামার আগে বাঁশ দিয়ে নাড়িয়ে নেয়া উচিততাহলে সাপ থাকলে তারা চলে যাবেসাপে দংশন করলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে
দেশে যে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায় তা চার ধরনের সাপের দংশনের পর ব্যবহার হয়রাসেলস ভাইপারের দংশনে এটি তেমন কাজ করে নারাসেলস ভাইপারের ভেনম তৈরিতে গবেষণা চললেও এখনো সফলতা আসেনিদেশের বেসরকারি কোনো ওষুধ কোম্পানিও অ্যান্টিভেনম বানায়নি
রাসেলস ভাইপারের আক্রমণ ও সাপের দংশনে মৃত্যুর ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয় জানতে চাইলে অসংক্রামক ব্যাধি নির্মূল কর্মসূচির (এনসিডিসি) ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নুশায়ের চৌধুরী বলেন, সাপের উপদ্রব বেড়েছেসে ক্ষেত্রে আমরা এসেন্সিয়াল ড্রাগ লিমিটেডের মাধ্যমে ইনসেপ্টা থেকে ১০ হাজার অ্যান্টিভেনম কিনেছিএছাড়া ডব্লিউএইচওর সহযোগিতায় ১০ হাজার অ্যান্টিভেনম আমাদের ছিলডব্লিউএইচওর ১০ হাজার অ্যান্টিভেনম দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছেকেনা ১০ হাজারের মধ্যে তিন হাজার দেয়া হয়েছেবাকি সাত হাজার চাহিদা অনুযায়ী দেয়া হবেবর্ষা শুরু হলে চাহিদা বাড়বে, তখন পাঠিয়ে দেবো
অ্যান্টিভেনমের কমতি নেই জানিয়ে নুশায়ের চৌধুরী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলো চাহিদা দিতে দেরি করেএসব ক্ষেত্রে অ্যান্টিভেনম শেষ হওয়ার আগে কিংবা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবেদন করতে হয়কিন্তু তাদের খামখেয়ালিতে অনেক সময় বিপদ হয়ে যায়নুশায়ের চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে একমাত্র ইনসেপ্টা ভারত থেকে অ্যান্টিভেনম আমদানি করেআমাদের বাধ্য হয়ে তাদের থেকেই কিনতে হয়
এ ব্যাপারে ইনসেপ্টা ফার্মার সিনিয়র ম্যানেজার ফারহানা লাইজু বলেন, সরকার আমাদের থেকে অর্ডার দিয়ে অ্যান্টিভেনম কিনে নেয়এছাড়া আমরা বেসরকারিভাবেও বিক্রি করিফারহানা লাইজু বলেন, রাসেলস ভাইপারের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবেএছাড়া দুর্গম এলাকা থেকে রোগীরা আসেহাসপাতাল ফ্যাসিলিটিতে আসতে তাদের সময় লাগেএক্ষেত্রে কাছাকাছি যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থাকে সেখানকার ফার্মাসিতে যদি অ্যান্টিভেনম রাখা হয়, হাসপাতালগুলো প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে
ভেনম রিসার্চ সেন্টারের গবেষক ডা. আবদুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, এখনো অ্যান্টিভেনমের সফলতার মুখ না দেখা গেলেও রাসেলস ভাইপারের ভেনম থেকে আমরা অ্যান্টিবডি তৈরি করছিআমরা প্রথমে রাসেলস ভাইপারের ভেনম নির্দিষ্ট পরিমাণ মুরগিকে দেইমুরগির ডিমে অ্যান্টিবডিগুলো থাকেএরপর ডিমের অ্যালবুমিন থেকে অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করিএছাড়া ছাগলের শরীরে ভেনম প্রয়োগ করেও রক্ত সংগ্রহ করে তাদের থেকে অ্যান্টিবডি আলাদা করা হয়েছেএখন অ্যান্টিবডি পিউরিফিকেশনের কাজ চলছেএরপর আমরা ইঁদুরের শরীরে সেটা প্রয়োগ করে যাচাই করবো আমাদের দেশে তৈরি অ্যান্টিবডি কতটুকু কার্যকরআমরা যে ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরির চেষ্টা করছি তা দিয়ে রাসেলস ভাইপারের কামড়ের চিকিৎসা শতভাগ সম্ভব হবে, যেখানে ভারতের অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পরও রাসেলস ভাইপারে কামড়ানো রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না
এই অ্যান্টিবডি আলাদাকরণ ও পিউরিফিকেশনের ফলাফল দেয়া এবছরের মধ্যে সম্ভব জানিয়ে ডা. আবদুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, অ্যান্টিবডি আলাদাকরণের তথ্য নিয়ে আমাদের প্রজেক্ট এ বছর শেষ হবেএছাড়া সামনে ভালো পরিমাণ ভেনম যদি থাকে, ম্যাপিং করা থাকে এবং ক্যারেক্টার আলাদা করার কাজ হয়ে যায় তাহলে আমরা অ্যান্টিভেনম বানানোর প্রক্রিয়ায় অনেক দূর এগিয়ে যাবো
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য